Tuesday, 22 October 2013

ফখরুলের চিঠি আশরাফের হাতে

ফখরুলের চিঠি আশরাফের হাতে

@ Prothom-alo
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামবিএনপির চেয়ারপারসনের দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল মির্জা ফখরুলের চিঠিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কাছে পৌঁছে দেয়।

চিঠি পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ফোন করেন সৈয়দ আশরাফ। এ সময় মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনস্থলে বসেই ফোনে মির্জা ফখরুল সৈয়দ আশরাফকে বলেন, ‘আশা করছি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আলোচনা শুরু করবেন। আমরা এগিয়ে এসেছি, এখন আপনারাও এগিয়ে আসবেন।’
সৈয়দ আশরাফ ফোনে কী বলেছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল জানান, চিঠির জন্য তিনি (আশরাফ) ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দিনাজপুর যাচ্ছেন। চিঠিটি তিনি সঙ্গে নিয়েই যাবেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি চিঠির বিষয়টি নিয়ে আলাপ করবেন।
চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল দল গুলশান কার্যালয় থেকে চিঠি নিয়ে সৈয়দ আশরাফের বেইলি রোডের বাসার উদ্দেশে রওনা হয়। অন্য দুজন হলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা চিঠিটি সৈয়দ আশরাফের হাতে তুলে দেন।
প্রতিনিধিদলটি আশরাফের বাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় খবর আসে, সৈয়দ আশরাফের বাসার গেট খোলা হচ্ছে না। এ খবরে মির্জা ফখরুলকে কিছুটা বিচলিত হতে দেখা যায়। এর একটু পর একটি ফোন আসে। মির্জা ফখরুলকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে বলে চলে আসেন, এখন চিঠি দেওয়ার দরকার নেই।’
এরপর সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই আসে আরেকটি ফোনকল। কথা বলবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। এরপর হাসিমুখে সালাম দিয়ে কথা বলা শুরু করেন মির্জা ফখরুল।
চিঠি হস্তান্তর শেষে বরকতউল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সৈয়দ আশরাফের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দিয়েছি। তিনি স্বাক্ষর করে তা গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হবে বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন।’
১৮ অক্টোবর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর তিন দিনের মাথায় গতকাল ২১ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে থাকা ২০ উপদেষ্টার মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ পাঁচজন ও বিএনপি পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব দেওয়ার পরদিন আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠালেন।
বিএনপির সংবাদ ব্রিফিং: গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বহরে পুলিশি হামলার নিন্দা জানান। ওই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের অপসারণ ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, যখন সমঝোতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখন এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে সরকার সমঝোতায় আন্তরিক নয়। এ জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়। কিন্তু এটিকে দুর্বলতা মনে করলে সরকার ভুল করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি ২৫ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়। সরকার সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংকট নিরসনের পথ উন্মুক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Monday, 21 October 2013

নির্বাচনকালীন সরকারের পাল্টা প্রস্তাব খালেদার

নির্বাচনকালীন সরকারের পাল্টা প্রস্তাব খালেদার

@prothom-alo
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন খালেদা জিয়া১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকা ২০ উপদেষ্টার মধ্যে থেকে ১০ জনের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ওই ২০ জন থেকে আওয়ামী লীগ পাঁচ জন এবং বিএনপি পাঁচ জনের নাম প্রস্তাব করবে। সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে ওই সরকারের প্রধান করা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের এই সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার আগে নির্বাচিত করে আনা যেতে পারে, যেভাবে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন করা হয়।

১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের তিনদিনের মাথায় পাল্টা এই প্রস্তাব তুলে ধরলেন বিরোধীদলীয় নেতা। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া তাঁর এই নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি করা, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ‘অতীতের ভুল’ সামনে আর না করারও অঙ্গীকার করেন। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকার কেমন হবে তারও একটি ধারণা দেন দলের চেয়ারপারসন।
সংবাদ সম্মেলন হলেও এখানে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করাার সুযোগ ছিল না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়নি
প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা ‘গ্রহণযোগ্য হয়নি’ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অষ্পষ্ট। সে সরকারের প্রধান কে হবেন তা খোলাসা করেননি। এই প্রস্তাবে সংশয় রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ বহাল রেখে, প্রশাসনকে কুক্ষিগত রেখে অসম প্রতিযোগীতার আহ্বান জানাচ্ছেন বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের গণদাবি সম্পর্কে কোনো আলোচনার অবকাশ না রেখে একতরফাভাবে শুধু নিজের সুবিধা অনুযায়ী একটি প্রস্তাব তুলেছেন। তিনি কেবল নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বিরোধীদলের পরামর্শ চেয়েছেন। তাঁর এ বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। আমি এখনো মনে করি, আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সুরাহা করা দরকার।’
খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ন্ন রেখে শান্তিপূর্ণ পথে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কেনো বিকল্প নেই। এই জন্যই তাঁরা জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলেছেন। এ দাবি এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখাবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার অনুকূলে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু সরকারের অনড় অবস্থান এবং জনসাধারণ ও বিরোধীদলের প্রতি যুদ্ধংদেহী আচরণ সকলকে হতাশ করেছে।
ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এসব ভুল না করার অঙ্গিকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। একথা স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, অতীতে আমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই যে, আমরা ঐসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আগামীতে একটি উজ্জল, অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি সেই প্রবচনের সঙ্গে একমত যে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই আমরা অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করবো না।’
ক্ষমা ঘোষণা
খালেদা জিয়া বলেন, পরিবর্তনের কথা কেবল মুখে বলাই যথেষ্ট নয়। কেননা এদেশের জনগণ অতীতেও পরিবর্তনের অঙ্গীকার রাজনীতিকদের কণ্ঠে শুনেছে। তাই তিনি ‘একটি কথা বলে’ পরিবর্তনের সূচনা করতে চান। তাঁকে যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন তাদের তিনি ‘ক্ষমা ঘোষণা’ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে, যারা আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা রকম অন্যায়-অবিচার করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন, আমি তাদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করছি। আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। সরকারে গেলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবো না। আমি কথা দিচ্ছি, আমার দৃষ্টি নিবন্ধ থাকবে বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জল ও অধিক নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করার কাজে। প্রতিশোধ নেওয়ার, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মতো কোনো ইচ্ছা ও সময় আমার নেই। আমি প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা মেটাবার জন্য কোনো সময় ব্যয় করবো না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন দাবি করেন, তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গ ও আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ ও তথ্য থাকা সত্বেও এ নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক হয়েছে। বাংলাদেশের সুরুচিবান মানুষ আর এসব শুনতে চান না।’
সরকার হবে জাতীয় ঐক্যের
খালেদা জিয়া জানিয়েছেন আগামীতে তাঁর দল যে সরকার গঠন করবে তা হবে সব ‘নাগরিকের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার’। মেধা ও মনণশীলতার সরকার। জাতীয় ঐক্যের সরকার। ‘যারা সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনেন, যারা সত্-যোগ্য-দক্ষ, যারা সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন, যারা নেতৃত্ব দিতে পারেন, রাজনৈতিক মত-ধর্ম-নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে সেই সব মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের’ আগামী দিনের জাতীয় ঐক্যের সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগাম আমন্ত্রণ জানান খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশের মাটি সন্ত্রাসীদের জন্য নয়
আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন বোমা হামলার ঘটনার উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলেই ঘটেছিল। আওয়ামী লীগ কোনো বিচার করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে সৃষ্ট এই জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস আমাদের সরকারের আমলেও অব্যাহত ছিল। তবে আমরা জঙ্গীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হই। তাদের সংগঠন ও তত্পরতা নিষিদ্ধ করি। শীর্ষ জঙ্গীনেতাদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিচারের ব্যবস্থা করি। আমাদের সরকারের আমলেই শীর্ষ জঙ্গীদের বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয়, পরে তা কার্যকর করা হয়েছে। আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াসে জঙ্গীবাদের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয়।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আগামীতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াই শুধু অব্যাহতই থাকবেই না, সন্ত্রাস বিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সঙ্গে মিলে এই সহযোগিতা বাড়াবার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিকে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অথবা অন্য কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তত্পরতায় কখনো ব্যবহার করতে না দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
আঞ্চলিক সহযোগিতা
আগামীতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সমর্থনে আগামীতে সরকারে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে আমরা একযোগে কাজ করব। বিদ্যমান সম্পর্ক বহাল রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক খাতে সহযোগিতা বাড়াবার নতুন পথের সন্ধান আমরা করবো।’
শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা এই অঞ্চলের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও বিকাশের ভিত্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, কোনো দেশ ও অঞ্চলই এখন আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে থাকতে পারে না। তাই আমাদেরকে বিশ্ব-সমাজের শরিক হিসেবে ভূমিকা ও অবদান রাখতে হবে। বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে দক্ষিণ এশিয়া অস্থিতিশীল হবে। আর দক্ষিণ এশিয়া অস্থিতিশীল হলে বিশ্বসমাজে তার প্রভাব পড়বে। সে কারণেই আমরা এমন নীতি গ্রহণ করবো যা দেশের এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এক বিশ্বসমাজ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও আমাদের প্রতিবেশি সকল দেশ যাতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে আগামীতে আমাদের সরকার সে-ভাবেই কাজ করবে।’

প্রতিবাদ করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন

প্রতিবাদ করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কর্মচারী ছাঁটাই নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে প্রায় দেড় বছর আগে। তখন প্রতিবাদ মুখোর হয়ে ওঠে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। এই সাহসী প্রতিবাদের সম্মাননা জানাচ্ছে ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন "ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন"। আর তাই এ বছর প্রথমবারের মতো 'ফ্রিডম ফ্রম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০১৩" পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন। শুধু জিপি ইউনিয়ন নয় বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের এ ধরনের পুরষ্কার পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।
ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ জে জেনিন্স গত ১৮ অক্টোবর লিখিত এক চিঠিতে এই পুরষ্কারের খবর জিপি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান মাসুদকে জানিয়েছেন।
চিঠিতে ফিলিপ জে জেনিন্স জানিয়েছেন, গত বছর আড়াইশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তার কারণেই সেরাদের সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে।
আন্দোলনের মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার দাবি আদায়ের বিষয়টিও জিপিইইউয়ের সাংগঠনিক কার্যত্রক্রমকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।
আগামী ১২-১৩ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইউনির নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে এ পুরষ্কার দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১২ সালের মে মাসে প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গ্রামীণফোন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সে সময় জন্ম হয় গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন বা জিপিইইউ।
তৎকালীন এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাঁটাই নয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত কর্মী প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ পড়ছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
কর্মী অসন্তোষের ঘটনায় তখন বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ (প্রায়ত) গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টোরে জনসনের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি পরে সাংবাদিকদের জানান, গ্রামীণফোনের সিইওর সঙ্গে আলোচনায় কর্মচারী বিক্ষোভের ঘটনায় কোনো সিদ্ধান্তে আসতে ধীর গতিতে এগুতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

গ্রামীণফোনের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সালে বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫১০ টাকা।
২০১০ সালে এ খাতে খরচ হয় ৬২৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০১১ সালে তা বেড়ে হয় ৬৯১ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৫২ টাকা।
অর্থাৎ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানের জনবলের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় আগের বছরের চেয়ে ১৭৮ কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩০ টাকা বেড়ে যায়। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে এ ব্যয় বেড়েছে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার ৮১২ টাকা।
সামগ্রিকভাবে সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে গ্রামীণফোনের। ২০০৯ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৫৬৮ টাকা।
২০১০ সালে ছিল ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৩৩ এবং ২০১১ সালে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ২৯০ টাকা।
২০১১ সালের মাঝামাঝি থেকে বাড়তি ব্যয় কমিয়ে আনার দিকে নজর দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমে আসে।
ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের আকার ছোট করা। একই সঙ্গে কোনো কোনো বিভাগের একত্রীকরণও করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১২ সালের মে মাসে ২৫০ কর্মী ছাঁটাই নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থুল কাণ্ড। এর আগে ২০০৯ সালে একসঙ্গে প্রায় ১৫০০ কর্মী ছাঁটাই করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গ্রামীণফোন।
ছাঁটাই হওয়া এসব কর্মীর প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে তাদের পুনর্নিয়োগের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের জন্য নবগঠিত এ সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পুরষ্কার পেতে চললেও এখন পর্যন্ত গ্রামীণফোনের স্বীকৃতি পায় নি।
উল্টো জিপিইইউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল (জিপিপিসি) নামে অপর একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছে অপারেটরটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
তবে চলতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষক প্যানেলের সকলেই জিপিপিসির নির্বাচনে হেরে বসে।
বরং জিপিইইউর নেতারাই পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ায় নতুন সংগঠনেরও দখল পেয়ে যায়। অথচ গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের বিরোধীতার কারণে জিপিইইউ এখনও সরকারের নিবন্ধন পায়নি।
সরকার ২০১০ সালে মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধনের সময় এটি আইনের অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
একই সঙ্গে সংগঠন করার বিষয়টি আইনে সংরক্ষিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই সংগঠন গঠন করতে পারছেন না কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন সেবা খাতের ২ কোটি কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত ইউনি গ্লোবাল নামের ইউরোপভিত্তিক সংগঠনটি জিপিইইউকে এ পুরষ্কার দিচ্ছে।

AD BANNAR