Monday, 21 October 2013

নির্বাচনকালীন সরকারের পাল্টা প্রস্তাব খালেদার

নির্বাচনকালীন সরকারের পাল্টা প্রস্তাব খালেদার

@prothom-alo
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন খালেদা জিয়া১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকা ২০ উপদেষ্টার মধ্যে থেকে ১০ জনের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ওই ২০ জন থেকে আওয়ামী লীগ পাঁচ জন এবং বিএনপি পাঁচ জনের নাম প্রস্তাব করবে। সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে ওই সরকারের প্রধান করা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের এই সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার আগে নির্বাচিত করে আনা যেতে পারে, যেভাবে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন করা হয়।

১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের তিনদিনের মাথায় পাল্টা এই প্রস্তাব তুলে ধরলেন বিরোধীদলীয় নেতা। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া তাঁর এই নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি করা, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ‘অতীতের ভুল’ সামনে আর না করারও অঙ্গীকার করেন। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকার কেমন হবে তারও একটি ধারণা দেন দলের চেয়ারপারসন।
সংবাদ সম্মেলন হলেও এখানে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করাার সুযোগ ছিল না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়নি
প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা ‘গ্রহণযোগ্য হয়নি’ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অষ্পষ্ট। সে সরকারের প্রধান কে হবেন তা খোলাসা করেননি। এই প্রস্তাবে সংশয় রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ বহাল রেখে, প্রশাসনকে কুক্ষিগত রেখে অসম প্রতিযোগীতার আহ্বান জানাচ্ছেন বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের গণদাবি সম্পর্কে কোনো আলোচনার অবকাশ না রেখে একতরফাভাবে শুধু নিজের সুবিধা অনুযায়ী একটি প্রস্তাব তুলেছেন। তিনি কেবল নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বিরোধীদলের পরামর্শ চেয়েছেন। তাঁর এ বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। আমি এখনো মনে করি, আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সুরাহা করা দরকার।’
খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ন্ন রেখে শান্তিপূর্ণ পথে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কেনো বিকল্প নেই। এই জন্যই তাঁরা জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলেছেন। এ দাবি এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখাবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার অনুকূলে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু সরকারের অনড় অবস্থান এবং জনসাধারণ ও বিরোধীদলের প্রতি যুদ্ধংদেহী আচরণ সকলকে হতাশ করেছে।
ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এসব ভুল না করার অঙ্গিকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। একথা স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, অতীতে আমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই যে, আমরা ঐসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আগামীতে একটি উজ্জল, অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি সেই প্রবচনের সঙ্গে একমত যে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই আমরা অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করবো না।’
ক্ষমা ঘোষণা
খালেদা জিয়া বলেন, পরিবর্তনের কথা কেবল মুখে বলাই যথেষ্ট নয়। কেননা এদেশের জনগণ অতীতেও পরিবর্তনের অঙ্গীকার রাজনীতিকদের কণ্ঠে শুনেছে। তাই তিনি ‘একটি কথা বলে’ পরিবর্তনের সূচনা করতে চান। তাঁকে যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন তাদের তিনি ‘ক্ষমা ঘোষণা’ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে, যারা আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা রকম অন্যায়-অবিচার করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন, আমি তাদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করছি। আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। সরকারে গেলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবো না। আমি কথা দিচ্ছি, আমার দৃষ্টি নিবন্ধ থাকবে বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জল ও অধিক নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করার কাজে। প্রতিশোধ নেওয়ার, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মতো কোনো ইচ্ছা ও সময় আমার নেই। আমি প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা মেটাবার জন্য কোনো সময় ব্যয় করবো না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন দাবি করেন, তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গ ও আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ ও তথ্য থাকা সত্বেও এ নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক হয়েছে। বাংলাদেশের সুরুচিবান মানুষ আর এসব শুনতে চান না।’
সরকার হবে জাতীয় ঐক্যের
খালেদা জিয়া জানিয়েছেন আগামীতে তাঁর দল যে সরকার গঠন করবে তা হবে সব ‘নাগরিকের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার’। মেধা ও মনণশীলতার সরকার। জাতীয় ঐক্যের সরকার। ‘যারা সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনেন, যারা সত্-যোগ্য-দক্ষ, যারা সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন, যারা নেতৃত্ব দিতে পারেন, রাজনৈতিক মত-ধর্ম-নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে সেই সব মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের’ আগামী দিনের জাতীয় ঐক্যের সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগাম আমন্ত্রণ জানান খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশের মাটি সন্ত্রাসীদের জন্য নয়
আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন বোমা হামলার ঘটনার উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলেই ঘটেছিল। আওয়ামী লীগ কোনো বিচার করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে সৃষ্ট এই জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস আমাদের সরকারের আমলেও অব্যাহত ছিল। তবে আমরা জঙ্গীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হই। তাদের সংগঠন ও তত্পরতা নিষিদ্ধ করি। শীর্ষ জঙ্গীনেতাদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিচারের ব্যবস্থা করি। আমাদের সরকারের আমলেই শীর্ষ জঙ্গীদের বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয়, পরে তা কার্যকর করা হয়েছে। আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াসে জঙ্গীবাদের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয়।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আগামীতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াই শুধু অব্যাহতই থাকবেই না, সন্ত্রাস বিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সঙ্গে মিলে এই সহযোগিতা বাড়াবার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিকে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অথবা অন্য কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তত্পরতায় কখনো ব্যবহার করতে না দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
আঞ্চলিক সহযোগিতা
আগামীতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সমর্থনে আগামীতে সরকারে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে আমরা একযোগে কাজ করব। বিদ্যমান সম্পর্ক বহাল রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক খাতে সহযোগিতা বাড়াবার নতুন পথের সন্ধান আমরা করবো।’
শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা এই অঞ্চলের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও বিকাশের ভিত্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, কোনো দেশ ও অঞ্চলই এখন আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে থাকতে পারে না। তাই আমাদেরকে বিশ্ব-সমাজের শরিক হিসেবে ভূমিকা ও অবদান রাখতে হবে। বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে দক্ষিণ এশিয়া অস্থিতিশীল হবে। আর দক্ষিণ এশিয়া অস্থিতিশীল হলে বিশ্বসমাজে তার প্রভাব পড়বে। সে কারণেই আমরা এমন নীতি গ্রহণ করবো যা দেশের এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এক বিশ্বসমাজ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও আমাদের প্রতিবেশি সকল দেশ যাতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে আগামীতে আমাদের সরকার সে-ভাবেই কাজ করবে।’

প্রতিবাদ করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন

প্রতিবাদ করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কর্মচারী ছাঁটাই নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে প্রায় দেড় বছর আগে। তখন প্রতিবাদ মুখোর হয়ে ওঠে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। এই সাহসী প্রতিবাদের সম্মাননা জানাচ্ছে ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন "ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন"। আর তাই এ বছর প্রথমবারের মতো 'ফ্রিডম ফ্রম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০১৩" পাচ্ছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন। শুধু জিপি ইউনিয়ন নয় বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের এ ধরনের পুরষ্কার পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।
ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ জে জেনিন্স গত ১৮ অক্টোবর লিখিত এক চিঠিতে এই পুরষ্কারের খবর জিপি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান মাসুদকে জানিয়েছেন।
চিঠিতে ফিলিপ জে জেনিন্স জানিয়েছেন, গত বছর আড়াইশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তার কারণেই সেরাদের সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে।
আন্দোলনের মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার দাবি আদায়ের বিষয়টিও জিপিইইউয়ের সাংগঠনিক কার্যত্রক্রমকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।
আগামী ১২-১৩ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইউনির নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে এ পুরষ্কার দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১২ সালের মে মাসে প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গ্রামীণফোন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সে সময় জন্ম হয় গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন বা জিপিইইউ।
তৎকালীন এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাঁটাই নয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত কর্মী প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ পড়ছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
কর্মী অসন্তোষের ঘটনায় তখন বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ (প্রায়ত) গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টোরে জনসনের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি পরে সাংবাদিকদের জানান, গ্রামীণফোনের সিইওর সঙ্গে আলোচনায় কর্মচারী বিক্ষোভের ঘটনায় কোনো সিদ্ধান্তে আসতে ধীর গতিতে এগুতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

গ্রামীণফোনের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সালে বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫১০ টাকা।
২০১০ সালে এ খাতে খরচ হয় ৬২৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০১১ সালে তা বেড়ে হয় ৬৯১ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৫২ টাকা।
অর্থাৎ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানের জনবলের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় আগের বছরের চেয়ে ১৭৮ কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩০ টাকা বেড়ে যায়। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে এ ব্যয় বেড়েছে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার ৮১২ টাকা।
সামগ্রিকভাবে সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে গ্রামীণফোনের। ২০০৯ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৫৬৮ টাকা।
২০১০ সালে ছিল ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৩৩ এবং ২০১১ সালে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ২৯০ টাকা।
২০১১ সালের মাঝামাঝি থেকে বাড়তি ব্যয় কমিয়ে আনার দিকে নজর দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমে আসে।
ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের আকার ছোট করা। একই সঙ্গে কোনো কোনো বিভাগের একত্রীকরণও করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১২ সালের মে মাসে ২৫০ কর্মী ছাঁটাই নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থুল কাণ্ড। এর আগে ২০০৯ সালে একসঙ্গে প্রায় ১৫০০ কর্মী ছাঁটাই করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গ্রামীণফোন।
ছাঁটাই হওয়া এসব কর্মীর প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে তাদের পুনর্নিয়োগের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের জন্য নবগঠিত এ সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পুরষ্কার পেতে চললেও এখন পর্যন্ত গ্রামীণফোনের স্বীকৃতি পায় নি।
উল্টো জিপিইইউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল (জিপিপিসি) নামে অপর একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছে অপারেটরটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
তবে চলতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষক প্যানেলের সকলেই জিপিপিসির নির্বাচনে হেরে বসে।
বরং জিপিইইউর নেতারাই পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ায় নতুন সংগঠনেরও দখল পেয়ে যায়। অথচ গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের বিরোধীতার কারণে জিপিইইউ এখনও সরকারের নিবন্ধন পায়নি।
সরকার ২০১০ সালে মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধনের সময় এটি আইনের অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
একই সঙ্গে সংগঠন করার বিষয়টি আইনে সংরক্ষিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই সংগঠন গঠন করতে পারছেন না কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন সেবা খাতের ২ কোটি কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত ইউনি গ্লোবাল নামের ইউরোপভিত্তিক সংগঠনটি জিপিইইউকে এ পুরষ্কার দিচ্ছে।

বাজারে আসলো উইন্ডোজ ৮.১

বাজারে আসলো উইন্ডোজ ৮.১

১৮ অক্টোবর থেকে উইন্ডোজের নতুন ভার্সন উইন্ডোজ ৮.১ বাজারে এসেছে। আগের উইন্ডোজ ৮ সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ছিল যে এটি ট্যাবলেট বা টাচস্ক্রিনের জন্য ভাল হলেও ডেস্কটপ ইউজারদের জন্য ততটা ভাল নয়। উইন্ডোজ ৮.১ এ মাইক্রোসফট এই দিকে খেয়াল রেখে এটিকে ডেস্কটপ ফ্রেন্ডলি হিসেবে ডেভেলপ করার চেষ্টা করেছে। তাই আপনি ট্যাবলেট বা ডেস্কটপ যেটিই ব্যবহার করুন না কেন আপনি এই আপগ্রেডের মাধ্যমে বেশ কিছু নতুন সুবিধা পাবেন। চলুন দ্রুত দেখি কি কি নতুন ফিচার উইন্ডোজ ৮.১ এ রয়েছে।
a
ডেস্কটপ বুটিং:
এই ভার্সনে আপনি প্রথমে স্টার্ট স্ক্রিনে না গিয়ে সরাসরি ডেস্কটপ মোডে কাজ করতে পারবেন।
a
চার্ম বার ও অ্যাপ্লিকেশন সুইচারঃ
উইন্ডোজ ৮.১ এ অ্যাপ সুইচার ও চার্ম বার আপনি চাইলে ডিজেবল করে রাখতে পারবেন।
স্টার্ট বাটনঃ
উইন্ডোজ ৮ থেকে স্টার্ট বাটন বাদ দিলেও নতুন ভার্সনে সেটি আবার ফিরিয়ে এনেছে মাইক্রোসফট। তবে না এটি আগের সেই স্টার্ট বাটন নয় যা ক্লাসিক মেনু দেখাত। নতুন স্টার্ট বাটনে ক্লিক করলে এটি আপনাকে স্টার্ট স্ক্রিনে ফেরত নিয়ে যাবে। আর স্টার্ট বাটনে রাইট ক্লিক করে আপনি সরাসরি শাট ডাউন মেনু একসেস করতে পারবেন।
a
স্টার্ট মেনুঃ
আগেই বলেছি আপনি স্টার্ট স্ক্রিনে না গিয়ে সরাসরি ডেস্কটপে লগইন করতে পারবেন। এছাড়া আপনি স্টার্ট বাটন ক্লিক করে স্টার্ট মেনু নিয়ে আসতে পারবেন যেখানে সকল ইন্সটলড অ্যাপসের লিস্ট দেখতে পাবেন।
স্টার্ট স্ক্রিন ও ডেস্কটপ ব্যাকগ্রাউন্ডঃ
a
এর আগে উইন্ডোজ এইটে স্টার্ট স্ক্রিনে ইচ্ছেমত ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করা যেত না। কিন্তু নতুন আপগ্রেডে আপনি ডেস্কটপ ও স্টার্ট স্ক্রিনের জন্য একই ব্যাকগ্রাউন্ড সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। লাইভ টাইলসের আরো দু’টি সাইজ সাপোর্ট অ্যাড করা হয়েছে। ফলে লাইভ টাইলসকে এখন ছোট,মাঝারি,প্রশ্বস্ত ও বড় এই চার ক্যাটাগরিতে আপনি পরিবর্তিত করতে পারবেন। এছাড়াও স্টার্ট স্ক্রিনের জন্য আরো ব্যাকগ্রাউন্ড বিশেষ করে অ্যানিমেটেড ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করা হয়েছে এবং কালার থিম ও কাস্টোমাইজেশন অপশন আগের চেয়ে আরো উন্নত করা হয়েছে।
ইউনিফায়েড সার্চঃ
a
ব্যবহারকারীর সার্চ এক্সপেরিয়েন্স কে আরো উন্নত করতে মাইক্রোসফট ইউনিফায়েড সার্চ অপশন অ্যাড করেছে। এখন আপনি প্রতিবার উইন্ডোজ সার্চ করার সাথে সাথেই আপনার পিসি,অ্যাপ ও ওয়েব থেকে প্রাপ্ত সমন্বিত রেজাল্ট দেখাবে। ওয়েব সার্চ রেজাল্ট দেখানোর জন্য বিং সার্চ ইঞ্জিন সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে আলাদা ব্রাউজার ওপেন না করেই আপনি উইন্ডোজ সার্চ করার সময়েই ওয়েব থেকেই প্রাপ্ত সার্চ রেজাল্ট দেখার পাশাপাশি ছবি , অনলাইন ভিডিও দেখা ও গান শুনতে পারবেন।
অ্যাপসের সাইড বাই সাইড ভিউঃ
উইন্ডোজে এইটে ২টি উইন্ডোজ স্টোর অ্যাপ পাশাপাশি চালানো ও ভিউ করা যেত। এখন উইন্ডোজ ৮.১ এ সর্বোচ্চ ৪টি অ্যাপ পাশাপাশি ভিউ ও কাজ করার সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়াও উইন্ডোজ স্টোর অ্যাপসের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
টাচ উপযোগী ফাইল ব্রাউজিংঃ
আপনি স্কাইড্রাইভ অ্যাপস ব্যবহার করে লোকাল পিসির ফাইল ব্রাউজ করতে পারবেন। ফলে ডেস্কটপ মোড ব্যবহার না করেই খুব সহজেই ফাইল ব্রাউজ করার সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এতে টাচ স্ক্রিন ব্যবহারকারীরা বেশি উপকৃত হবেন।
হেলপ ও টিপসঃ
যারা একদম নতুন ব্যবহারকারী তাদের সুবিধার জন্য হেলপ ও টিপস অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এটি ব্যবহারকারীকে নতুন ইন্টারফেসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
a
উন্নত পিসি সেটিংসঃ
উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ শোনা গেছে পিসি সেটিংস সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে। উইন্ডোজ ৮ এ মডার্ন ইউআই ও ক্লাসিক কন্ট্রোল প্যানেল এই দুই জায়গায় পিসি সেটিংস চেঞ্জ করা যেত। এতে ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। এখন উইন্ডোজ ৮.১ এ এখন পিসির প্রায় সব সেটিংস মডার্ন ইউআই মোড এ নিয়ে আসা হয়েছে।
উইন্ডোজ স্টোর অ্যাপস আপডেটঃ
উইন্ডোজ এইটের সাথে যে ডিফল্ট উইন্ডোজ অ্যাপস আসে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই খুবই সাধারন কিছু কাজ করতে পারে। যেমন- মেইল অ্যাপস মেইল ম্যানেজ করার জন্য ভাল হলেও অনেক দরাকারি ফিচার এতে নেই। নতুন উইন্ডোজে এই অ্যাপসগুলোতে আপডেট আনা হয়েছে। এক্সবক্স অ্যাপ্লিকেশন একদম রিডিজাইন করা হয়েছে। এছাড়া উইন্ডোজ স্টোর অ্যাপ্লিকেশনেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ক্যাটাগরি ভিউ এর বদলে এখন ইউজার রিকমন্ডেশন,ট্রেন্ড ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে অ্যাপসগুলো দেখাবে। অটো অ্যাপ আপডেট সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং অ্যাপ ইন্সটলেশনের লিমিট তুলে নেয়া হয়েছে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ স্টোর ১৯১ টি দেশ থেকে অ্যাকসেস করার সুবিধাও এখন যুক্ত করা হয়েছে।
a
উইন্ডোজ এইট তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন না করতে পারলেও এর নতুন আপডেট নিয়ে মাইক্রোসফট আশাবাদী। যদিও উইন্ডোজ ৮.১ এর শুরুটা ভাল হয়নি। এর আরটি ভার্সনটি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

AD BANNAR