Wednesday, 23 October 2013

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব দেশকে পেছনে নেবে

দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে মঙ্গলবার বিশাল জনসভায় হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসস
দিনাজপুরের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব দেশকে পেছনে নেবে
সংবিধানের মধ্যে থেকেই আগামী নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আমরা দেশকে সামনে নিয়ে যেতে চাই। আর বিরোধীদলীয় নেতা চান, দেশকে পেছনে ঠেলে দিতে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, সব দলকে নিয়ে তিনি নির্বাচনে যেতে চাইলেও তাতে বিরোধী দলই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে না। দেশ সংবিধান অনুযায়ীই চলবে। সংবিধানের মধ্যে থেকেই আগামী নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী
গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলা শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় আরও বলেছেন, 'আমরা সব দলকে নিয়েই নির্বাচন করতে চাই। আর এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে আমরা সব দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতার তা পছন্দ হলো না। উনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চান না। উনি ফিরে গেলেন অনেক পেছনে, ১৯৯৬ সালে। জনগণ আগে বাড়ে। এটা ২০১৩ সাল, আমরা জনগণকে নিয়ে উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিরোধী নেত্রীকে জিজ্ঞাসা করি, তিনি ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী পাঠিয়েছিলেন উনাকে মারার জন্য। তার জন্য এসএসএফের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। যে উপদেষ্টাদের তিনি তখন মারতে চেয়েছিলেন, তাদের তিনি এখন সরকারে আনতে চান।'
সরকারের গত পৌনে পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে আবারও জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়েও কম্পিউটার শিক্ষা চালু করব। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ব। এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কি-না জানতে চাইলে সমাবেশে উপস্থিত লোকজন হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও তার জনসভাকে ঘিরে গোটা এলাকায় আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। গোটা নগরীতে উৎসবের আমেজ ছিল। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এটি ছিল স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ। দুপুর ২টায় জনসভার পূর্বঘোষিত সময় থাকলেও তার অনেক আগে থেকেই দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী জেলাসহ দূরদূরান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভায় আসতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নারীর উপস্থিতিও দেখা গেছে। দুপুর ১টার মধ্যেই জনসভাস্থল হয়ে পড়ে লোকে লোকারণ্য। বিকেল নাগাদ মানুষের ভিড় ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জনসভাস্থলের পূর্বপাশের জেলা প্রশাসক অফিস ও জজকোর্ট এলাকা, পশ্চিমে সর্কিট হাউস, উত্তর পাশে পৌর ভবন ও রেলস্টেশন এবং দক্ষিণে শিশু পার্ক এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
এদিকে, জনসভাস্থলের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লাগানো কয়েকশ' মাইকে জনসভার কার্যক্রম প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শুরুর দিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে সমবেতদের অনেকেই তার বক্তব্য শুনতে পাননি। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দিনাজপুরের প্রবেশমুখের জেলাগুলোও অসংখ্য তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে সাজিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি গোটা এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চার জাতীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতিকৃতিও শোভা পেয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান এমপি ও দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকদের শোডাউনও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেল পৌনে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে দিনাজপুরে পেঁৗছান। পরে সার্কিট হাউসে বিশ্রাম শেষে জনসভার মাঠে উপস্থিত হয়ে সুইচ চেপে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর জনসভায় যোগ দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় তার বক্তব্য শুরু করেন।
আধঘণ্টার বেশি সময়ের বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে দিনাজপুরের সব আসনে জয়ী করায় এলাকাবাসীকে অভিনন্দন জানান। এলাকার উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে আগামী নির্বাচনেও দিনাজপুরবাসীর কাছে ভোট চান তিনি। এ সময় দিনাজপুর সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে বাস দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের সময় দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর বিএনপি দুর্নীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা দেশের জন্য পুরস্কার নিয়ে আসি। তারা নিয়ে আসে তিরস্কার। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন করে, আর বিএনপি এসে তা বন্ধ করে দেয়। ১৯৯৬ সালে ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছিল। এটা বিএনপির সহ্য হয়নি, তারা বন্ধ করে দিল। এবার ক্ষমতায় এসে আমরা প্রতিটি এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। মানুষ ঘরের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।
গত ৫ মের হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধীদলীয় নেতাকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। উনি সাড়া না দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন। হেফাজতকে উস্কে দিয়ে মসজিদের জায়নামাজে আগুন দিলেন, কোরআন শরীফ পোড়ালেন। ইসলামের ইতিহাসে এত কোরআন শরীফ কখনও পোড়েনি। কোরআন পুড়িয়ে ইসলাম রক্ষা করা যায় না।'
এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি আমলে কোনো ধর্মের মানুষই শান্তিতে বাস করতে পারেনি। মানুষ এখন শান্তিতে বাস করছে। এটা বিরোধী দলের নেত্রীর পছন্দ হয় না। যারা হাত কাটে, রগ কাটে, হাতুড়ি দিয়ে মানুষ হত্যা করে_ সেই শিবিরকেই উনি মদদ দেন। যেমন মদদ দিয়েছেন পঁচাত্তরের খুনিদের। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে উনি এই হত্যাকাণ্ডের রায়ের দিন হরতালও দিয়েছিলেন। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সে বিচারও করেছি।'
বিরোধী দল আইন, আদালত ও সংবিধান মানে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'উনি (খালেদা জিয়া) এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। হাওয়া ভবন বানিয়ে সরকারের ভেতরে আরেক সরকার করেছেন। এখন সাজার ভয়ে আদালতে উপস্থিত হন না।'
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'যেদিন আমি শোকে কাতর হয়ে থাকি, সেদিন বিরোধী নেত্রী কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। এটা তার আসল জন্মদিন নয়। সব হারিয়ে আমি আপনাদের সেবা করার জন্যই বেঁচে আছি। মানুষ একটা শোক সহ্য করতে পারে না। আমি একসঙ্গে এতগুলো শোক সইব কী করে!'
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরীর পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, ইকবালুর রহিম এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, সুলতানা বুলবুল এমপি, ড. আজিজুল হক এমপি, নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, মাজহারুল হক প্রধান এমপি, জাসদের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, আবু নাসের, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন খান, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আজিম প্রমুখ। জনসভা মঞ্চে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোতাহার হোসেন, মাহমুদ হাসান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব স্থাপনা ও অবকাঠামোর উদ্বোধন করেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতলবিশিষ্ট ড. এমএ ওয়াজেদ ভবন, আত্রাই নদীতে মোহনপুর ব্রিজের কাছে ১৩৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম নির্মাণ, দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন রানীরঘাটে টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত ১০০ মিটার রাবার ড্যাম বোচাগঞ্জ, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, পাঁচবাড়ী হাটে আত্রাই নদীর ওপর ১০০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজের পাঁচতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, বোচাগঞ্জ উপজেলায় আবদুর রউফ চৌধুরী অডিটোরিয়াম, বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সেতাবগঞ্জ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট তিনতলা একাডেমিক ভবন, 'স্বাধীনতা স্তম্ভ' মুক্তিযুদ্ধে শহীদ 'শহীদ আসাদুল্লাহ স্কয়ার', বিরল পৌরসভা, আটগাঁও দাখিল মাদ্রাসা (একাডেমিক ভবন), রাজুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় নতুন একাডেমিক ভবন, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মঙ্গলপুর, হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-হাকিমপুর, কাঞ্চন হতে বিরল পর্যন্ত (৬ কিলোমিটার) মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ ও বিরল হতে বিরল অর্ডার পর্যন্ত (৯ কিলোমিটার) মিটারগেজকে ব্রডগেজে রূপান্তর কাজ, 'সম্মুখ সমরের' মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ-হাকিমপুর, দিনাজপুর প্রেস ক্লাব কমপ্লেক্স ভবন, বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের গাঙর ব্রিজ, কাহারোল উপজেলা মৎস্য ভবন, বিরল উপজেলার হালজায় উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, বিরল উপজেলার ওকড়া দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন, সেতাবগঞ্জ পৌরসভা 'খ' শ্রেণী হতে 'ক' শ্রেণীতে উন্নীতকরণ এবং বোচাগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলো ভবন। একই সঙ্গে তিনি যেসব স্থাপনা ও অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের প্রশাসনিক ভবন, দিনাজপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড ইনফ্লুয়েন্স জোনসহ মাইনিং এলাকার মধ্যে বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের গৃহনির্মাণ প্রকল্প পার্বতীপুর দিনাজপুরভিত্তিক, দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণকাজ, দিনাজপুর স্টেডিয়ামের সম্প্রসারিত ভবন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বিরল দিনাজপুরভিত্তিক, তিনতলাবিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন-হাকিমপুর-দিনাজপুর এবং বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা নদীর ওপর গাড়ীরঘাট ব্রিজ।
-সমকাল

আশরাফ-ফখরুলকে তারানকোর ফোন

আশরাফ-ফখরুলকে তারানকোর ফোন 

  জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ টেলিফোন আলাপে দেশের প্রধান দু'দলকে সংলাপের
মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতাকে ফোন করেন। এ সময় আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে দু'দলের সংলাপ ফলপ্রসূ হবে বলে জাতিসংঘ আশা করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনকালীন 'সর্বদলীয় সরকার' এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব দেওয়ার পরই অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এই ফোন করলেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত হয়ে পাঁচ মাস আগে ঢাকায় সফর করে যাওয়া তারানকো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও দু'দলের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলেন।
কয়েক মাস আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে ফোন করে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করেন তারানকো। বিরোধীদলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব। এ সময় মির্জা ফখরুলের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকেও ফোন করবেন বলে তারানকো নিজেই জানিয়েছেন।
এর পরপরই জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককেও টেলিফোন করে কথা বলেন বলে জানা গেছে। তবে সৈয়দ আশরাফুলের সঙ্গে তার কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। আওয়ামী লীগের কোনো সূত্রও এ বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ফখরুলকে তারানকোর ফোন :মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তারানকো রাজনৈতিক সংলাপ ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব তারানকোকে জানান। সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগকে চিঠি পাঠানোর কথাও জানান তাকে।
তারানকো জানান, জাতিসংঘ খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। দু'দলকে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করছে জাতিসংঘ। সংলাপ ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা করছে সংস্থাটি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব জানান, টেলিফোনে কথা বলার সময় জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব চিঠি দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান।

-সমকাল

রিজার্ভ ১৭০০ কোটি ডলারের ওপর
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-১০-২০১৩
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় কমায় রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বর্ধিত ঋণ সুবিধার ১৪ কোটি ডলার ঋণ পেলে রিজার্ভ আরো বাড়বে।
গতকাল মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭১০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ হাজার ২৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানমতে, বর্তমান সরকারের প্রথম ২২ মাস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার কোটি ডলারের ওপর ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রিজার্ভে বড় ধরনের ওঠানামা শুরু হয়। ওই বছরের অক্টোবরে রিজার্ভ ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছলেও তা স্থায়ী হয়নি। নভেম্বরে রিজার্ভ আবারো ৯০০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রিজার্ভ ৯০০ কোটি ডলারে অবস্থান করে। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে, তবে আকু পেমেন্টের পর তা আবার নেমে যায়। এপ্রিলে ১ হাজার কোটি ডলারের উপরে উঠলেও তা পুনরায় নেমে যায়। এর পর জুনে ১ হাজার কোটি ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে গত অর্থবছরজুড়েই রিজার্ভ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে অবস্থান করেছে। এর ধারাবাহিকতা চলতি অর্থবছরও অব্যাহত রয়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাইয়ে রিজার্ভ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং আগস্টে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত কার্যক্রমের ফলে রেমিট্যান্সপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকিং পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উত্সাহিত করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস প্রতিষ্ঠা ও ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্টের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্য উত্পাদন বিশেষত চালের উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পণ্যটির আমদানি কমেছে। এছাড়া জ্বালানি তেলসহ আমদানিযোগ্য অন্যান্য পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হ্রাস পাওয়ায় এবং বিলাসদ্রব্যের আমদানি নিরুত্সাহিত হওয়ায়
সার্বিক আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ আইডিবির ঋণসহায়তার ফলেও আমদানি ব্যয়ের চাপ বর্তমানে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণগ্রহণ অনুমোদন করায় বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বেড়েছে।
- See more at: http://www.bonikbarta.com/first-page/2013/10/23/19899#sthash.u71jvbWA.dpuf
রিজার্ভ ১৭০০ কোটি ডলারের ওপর
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-১০-২০১৩
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় কমায় রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বর্ধিত ঋণ সুবিধার ১৪ কোটি ডলার ঋণ পেলে রিজার্ভ আরো বাড়বে।
গতকাল মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭১০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ হাজার ২৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানমতে, বর্তমান সরকারের প্রথম ২২ মাস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার কোটি ডলারের ওপর ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রিজার্ভে বড় ধরনের ওঠানামা শুরু হয়। ওই বছরের অক্টোবরে রিজার্ভ ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছলেও তা স্থায়ী হয়নি। নভেম্বরে রিজার্ভ আবারো ৯০০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রিজার্ভ ৯০০ কোটি ডলারে অবস্থান করে। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে, তবে আকু পেমেন্টের পর তা আবার নেমে যায়। এপ্রিলে ১ হাজার কোটি ডলারের উপরে উঠলেও তা পুনরায় নেমে যায়। এর পর জুনে ১ হাজার কোটি ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে গত অর্থবছরজুড়েই রিজার্ভ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে অবস্থান করেছে। এর ধারাবাহিকতা চলতি অর্থবছরও অব্যাহত রয়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাইয়ে রিজার্ভ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং আগস্টে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত কার্যক্রমের ফলে রেমিট্যান্সপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকিং পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উত্সাহিত করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস প্রতিষ্ঠা ও ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্টের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্য উত্পাদন বিশেষত চালের উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পণ্যটির আমদানি কমেছে। এছাড়া জ্বালানি তেলসহ আমদানিযোগ্য অন্যান্য পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হ্রাস পাওয়ায় এবং বিলাসদ্রব্যের আমদানি নিরুত্সাহিত হওয়ায়
সার্বিক আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ আইডিবির ঋণসহায়তার ফলেও আমদানি ব্যয়ের চাপ বর্তমানে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণগ্রহণ অনুমোদন করায় বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বেড়েছে।
- See more at: http://www.bonikbarta.com/first-page/2013/10/23/19899#sthash.u71jvbWA.dpuf

সংবিধানের বাইরে কোন প্রস্তাব মানব না

সংবিধানের বাইরে কোন প্রস্তাব মানব না

যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন :প্রধানমন্ত্রী

মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোন প্রস্তাব আমরা মেনে নিতে পারি না। যথাসময়ে সংবিধান মোতাবেক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর অন্যথা করার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আমি নির্দলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী সে প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে সরকার গঠনের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা যখন এগিয়ে যেতে চাই তখন তিনি পিছন থেকে টেনে ধরেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে শুরু হয় দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদের উত্থান। এখন তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের তিনি বাঁচাতে পারবেন না। জাতির পিতা হত্যার বিচার সম্পন্ন করে রায় যেমন কার্যকর করা হয়েছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর এই বাংলার মাটিতেই সম্পন্ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় খালেদা জিয়ার মনে আজ বড় ব্যথা। কারণ, তিনি ওই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নানা কৌশল ও চেষ্টা চালিয়েও তাদের রক্ষা করতে পারছেন না। বিএনপিকে লুটেরা, খুনি, দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের সম্পদ লুট করেছে। এমনকি এতিমদের অর্থও লুট করেছে। এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোর্টে হাজিরা দেন না। ভয় করেন যদি তাকে আটক করা হয়। লুটপাট এবং সন্ত্রাসের জন্য তারা হাওয়া ভবন নামে একটি ভবনে আন্ডার গ্রাউন্ড সরকার গঠন করেছিল। তাদের আমলে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারা যুবকদের হাতে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে তাদের বিপথগামী করেছে। তাদের সময়ে বিদ্যুতের উত্পাদনের পরিবর্তে শুধুই খাম্বা তৈরি করে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন সরকারের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার করছেন। ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে বলে তিনি চরম মিথ্যাচার করেছেন। হেফাজতে ইসলাম তাণ্ডব চালিয়ে মসজিদে আগুন দিয়েছে, কোরআন শরিফ পুড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আশপাশের ভবনে অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব চালিয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এই সরকারের আমলে বিদ্যুতের উত্পাদন বেড়েছে। ১৯৯৬ সালে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন রেখে যায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি উত্পাদন কমিয়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ৯ হাজার ৯শ' মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ১১টি বিদ্যুত্ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যা থেকে ৬ হাজার ৬শ' মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। দিনাজপুর বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের সময়ে সারের দাম পর পর ৩ বার হরাস করা হয়েছে। কোন কৃষককে সারের জন্য ঘুরে বেড়াতে হয়নি। তারা নির্বিঘ্নে আবাদ করে উত্পাদন বাড়িয়েছে এবং নিজেরা সচ্ছল হয়েছে। সরকার যখন ক্ষমতা নেয় তখন ৩০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরে গণহত্যায় জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তাই তারা ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আবার ফিরে আসবে। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে এদেশের জনগণের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মত হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনঃনির্বাচিত হলে দেশের প্রতি জেলায় শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরে ১৯৯৫ সালে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার পর যেভাবে আগুন জ্বলছিল তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দিনাজপুরে না এসে চীনে পাড়ি জমান। যখন জেলায় নিরাপত্তা ছিল না, আইন-শৃঙ্খলা ছিল না, সেই মুহূর্তে আমি বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দিনাজপুরবাসীর পাশে এসে দাঁড়াই এবং সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করি। আমরা ইচ্ছা করলে সরকার পতনের জন্য ইয়াসমিন ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। আমরা জনগণের পাশে সহযোগিতার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ এর আগস্টে পরিবারের সকলকে হারিয়েছি। আজ আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, আমি সব ব্যথা-বেদনা ভুলে মানুষের জন্য রাজনীতি করি। এই দিনে খালেদা জিয়া ফুর্তি করার জন্য ১৫ আগস্ট নতুন জন্মদিন সৃষ্টি করে উল্লাস করেন। এই দিনাজপুরেই খালেদা জিয়া যে স্কুলে ভর্তি হন তাতে, তার জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর দেখানো হয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময়ও ৫ সেপ্টেম্বর জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে। তিনি ওই পরীক্ষায় পাস করেছেন কিনা আমি জানি না। তবে আপনারাই ভাল জানেন। তবে আমি এটুকু জেনেছি উনি উর্দু, অংক ও বাংলায় পাস করেছেন। অন্যান্য বিষয়ে কত নাম্বার পেয়েছিলেন তা আপনারাই জানেন।

দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, এলজিইডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ আলী, এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন খান, ইকবালুর রহিম এমপি, মনোরঞ্জনশীল গোপাল এমপি, ফজলে রাব্বী এমপি, জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী। জনসমাবেশটি সঞ্চালন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার পূর্বে ৪টা ৩ মিনিটে ৫শ শয্যা বিশিষ্ট দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল বিশিষ্ট ড. এম এ ওয়াজেদ ভবন, আত্রাই নদীতে দেশের বৃহত্তম ১৩৫ মিটার রাবার ড্যাম, বোঁচাগঞ্জের টাঙ্গন নদীর উপর ১শ মিটার রাবার ড্যাম, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, পাঁচবাড়ী আত্রাই নদীর উপর ১শ মিটার ব্রিজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজের ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, বোঁচাগঞ্জে আব্দুর রউফ অডিটরিয়াম, বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, দিনাজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সেতাবগঞ্জ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, স্বাধীনতা স্তম্ভ শহীদ আসাদুল্লাহ স্কোয়ার, বোঁচাগঞ্জে আঁটগাঁও দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন, বিরলে রাজুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, হাকিমপুর ফায়ার স্টেশন, কাঞ্চন থেকে রাধিকপুর পর্যন্ত রেললাইনকে ডুয়েল গেজ ও ব্রড গেজে রূপান্তর, হাকিমপুরে সম্মুখ সমরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বীরগঞ্জে গাঙ্গর ব্রিজ, কাহারোল উপজেলা মত্স্য ভবন, বিরলে হালজায় উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, ওকড়া দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন এবং বোঁচাগঞ্জ উপজেলা ডাক বাংলো উদ্বোধন করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সেতাবগঞ্জ পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ এবং বিরল পৌরসভার উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং মোট ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলো হলো-দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক ভবন, দিনাজপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ইন্স্যুরেন্স জোনসহ মাইনিং এলাকায় বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের গৃহ নির্মাণ, দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, দিনাজপুর স্টেডিয়ামের সমপ্রসারিত ভবন, বিরল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, হাকিমপুরে তিন তলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং বীরগঞ্জের পাথরঘাটা নদীর উপর ব্রিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে দিনাজপুর মহিলা কলেজ ও সরকারি কলেজে দুটি করে বাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

AD BANNAR