Tuesday, 22 October 2013

মিরপুরে আবারও বৃষ্টির হানা

মিরপুরে আবারও বৃষ্টির হানা

অনলাইন প্রতিবেদক | আপডেট: ১৫:৪৬, অক্টোবর ২২
@Prothom-alo
প্রথম দিনের মতো আজও খেলার একটা বড় অংশ কেড়ে নিল বৃষ্টি। ছবি: প্রথম আলোবৃষ্টি আবারও বাদ সেধেছে মিরপুরে। মধ্য দুপুরে বৃষ্টির ছাঁট গতকালের মতো আজ দ্বিতীয় দিনের খেলাও বন্ধ করে দেয়। উইকেট ঢেকে দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১০৭ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১৭৫ রানে পিছিয়ে কিউইরা, হাতে সাতটি উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের পতন হওয়া সবগুলো উইকেট ঝুলিতে পুরে কিউই ব্যাটিংয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন সাকিব আল হাসান। আপাতত তাঁর বল হাতে ছন্দে ফেরার ব্যাপারটিই স্বস্তি ছড়িয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। এখনো পর্যন্ত স্পিন কার্যকর ভূমিকা রাখলেও কেন উইলিয়ামসন (২৮) আর রস টেলর (৩৭) প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন দারুণভাবেই। যত দুশ্চিন্তা এখন বৃষ্টি নিয়ে। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই মাঠে একটি টেস্টে তিন দিন খেয়ে দিয়েছিল বৃষ্টি।
বাংলাদেশের করা ২৮২ রানের জবাবে খেলতে নেমে দলীয় ৩১ রানে প্রথম  উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। সাকিবের বলে ব্যক্তিগত ১৩ রানে শর্ট লেগে মমিনুলকে ক্যাচ দেন হামিশ রাদারফোর্ড। সাকিব আবার আঘাত  হানেন এর অল্প পরেই। দলীয় সংগ্রহের সঙ্গে তখন আর মাত্র ১ রান যোগ করতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। এবার অবশ্য এলবিডাব্লিউয়ের শিকার হন ফুলটন। নিজের তৃতীয় উইকেটটির পুরো কৃতিত্বই রুবেলকে দিতে চাইবেন সাকিব। বলটা ভালোই মেরেছিলেন ম্যাককালাম। কিন্তু রুবেল দারুণভাবে তাঁর ক্যাচটি লুফে নিয়ে তাঁকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান।
রুবেল কেন উইলিয়ামসনকেও সমস্যায় ফেলেছেন। তাঁর বাউন্সারে আঘাত পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য অবসরে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে মাঠে ফিরে টেলরের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের আশার আলো হয়েই আছেন তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিবের পাশাপাশি ভালো বল করছেন সোহাগ গাজী। ৬ ওভারে তাঁর খরচ মাত্র ১৩ রান। পেসার আল-আমিন হোসেনও ১৪ ওভার বল করে ১৪ রান দিয়েছেন। ৫.৩ ওভার বল করে রুবেলের খরচ ১৫ রান। তবে কোনো কিছুই ঠিকঠাক চলছে না দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফেরা রাজ্জাকের। ৫ ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ৩৩ রান। সাকিবের পরিসংখ্যানটি অনেকটা এমন  ১১-১-২৫-৩।
সকাল থেকেই ছিল ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার মিছিল। প্রথমে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এরপর একে একে নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেন ও আবদুর রাজ্জাক, রুবেল। চার শর লক্ষ্য ছিল, অথচ তিন শও হলো না। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৮২ রানে। বৃষ্টি-বিঘ্নিত প্রথম দিন ৫ উইকেটে ২২৮ রানে শেষ করার পর আজ দ্বিতীয় দিনের সকালে ৫৪ রান যোগ করতে পারল বাংলাদেশ।
কাল দিনের অনেকটুকু বৃষ্টি খেয়ে ফেলার পর আজ সকালে আধঘণ্টা আগেই শুরু হয় দিনের খেলা। নাসির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আস্তে আস্তে কালকের বিপর্যয়টা সামলে উঠছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু মোটামুটি বাইরের একটি বল খেলার ভুলের মাশুল বেশ ভালোভাবেই দিলেন মুশফিক। তিনি শিকার অভিষিক্ত নিল ওয়াগনারের। নাসিরের বিদায়টা অবশ্য বাংলাদেশের স্পিনারদের একটু উত্সাহী করে তুলতে পারে। ইশ সোধির অসম্ভব টার্নিং বল নাসিরের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় টেলরের হাতে।
সোহাগের ওপর ভরসা ছিল। ভালোও খেলছিলেন। কিন্তু সঙ্গী রাজ্জাকের ওপর বোধহয় ভরসা করতে পারেননি তিনি। তিনিও শট খেলার মাশুল গুনেছেন কড়ায়-গন্ডায়। ওয়াগনারের বাইরের একটি বল খেলতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দিয়েছেন উইলিয়ামসনকে। নিজের পঞ্চম উইকেটটি ওয়াগনার তুলেছেন রুবেলকে ফিরিয়ে দিয়ে। ওয়াগনারের পাশাপাশি সোধি ৫৯ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট এবং কোরে অ্যান্ডারসন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন।

হোমওয়ার্ক না করে প্রস্তাব দিয়েছেন খালেদা: ওবায়দুল

হোমওয়ার্ক না করে প্রস্তাব দিয়েছেন খালেদা: ওবায়দুল

@ Prothom-Alo
ওবায়দুল কাদেরওবায়দুল কাদেরবিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রস্তাব অবাস্তব এবং তিনি হোমওয়ার্ক না করে প্রস্তাবটি রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একসঙ্গে চারটি সেতু ও ২২৮টি কালভার্ট উদ্বোধন করতে এসে মন্ত্রী কথাগুলো বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) পাল্টা প্রস্তাবে বড় ধরনের ভ্রান্তি আছে। বিরোধীদলীয় নেতা প্রস্তাব রেখেছেন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা থেকে পাঁচজন করে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে। কিন্তু আমাদের কাছে যতটা খবর আছে, এঁদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন, চারজন অসুস্থ। আমি যতটা জানি ছয়জন দায়িত্ব পালনে সম্মত নন।’
যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। ড. আকবর আলি খান ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মতো বিশিষ্টজনেরা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে ইতিবাচক আখ্যায়িত করেছেন। অথচ বিরোধীদলীয় নেতা সে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পাল্টা প্রস্তাব রেখেছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা করলে সংবিধান থেকে সবাই সম্মত হওয়ার মতো বিকল্প সমাধানের উপায় বের করা যাবে। একটু কঠিন হলেও তা অসম্ভব নয়।। কাল থেকে সংসদ বসছে। তারা সংসদে এসে বলতে পারে, তারা কী চায়।’
মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের মুখ থেকে শেষ কথা শোনার জন্য আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

ফখরুলের চিঠি আশরাফের হাতে

ফখরুলের চিঠি আশরাফের হাতে

@ Prothom-alo
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামবিএনপির চেয়ারপারসনের দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল মির্জা ফখরুলের চিঠিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কাছে পৌঁছে দেয়।

চিঠি পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ফোন করেন সৈয়দ আশরাফ। এ সময় মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনস্থলে বসেই ফোনে মির্জা ফখরুল সৈয়দ আশরাফকে বলেন, ‘আশা করছি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আলোচনা শুরু করবেন। আমরা এগিয়ে এসেছি, এখন আপনারাও এগিয়ে আসবেন।’
সৈয়দ আশরাফ ফোনে কী বলেছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল জানান, চিঠির জন্য তিনি (আশরাফ) ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দিনাজপুর যাচ্ছেন। চিঠিটি তিনি সঙ্গে নিয়েই যাবেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি চিঠির বিষয়টি নিয়ে আলাপ করবেন।
চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল দল গুলশান কার্যালয় থেকে চিঠি নিয়ে সৈয়দ আশরাফের বেইলি রোডের বাসার উদ্দেশে রওনা হয়। অন্য দুজন হলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা চিঠিটি সৈয়দ আশরাফের হাতে তুলে দেন।
প্রতিনিধিদলটি আশরাফের বাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় খবর আসে, সৈয়দ আশরাফের বাসার গেট খোলা হচ্ছে না। এ খবরে মির্জা ফখরুলকে কিছুটা বিচলিত হতে দেখা যায়। এর একটু পর একটি ফোন আসে। মির্জা ফখরুলকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে বলে চলে আসেন, এখন চিঠি দেওয়ার দরকার নেই।’
এরপর সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই আসে আরেকটি ফোনকল। কথা বলবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। এরপর হাসিমুখে সালাম দিয়ে কথা বলা শুরু করেন মির্জা ফখরুল।
চিঠি হস্তান্তর শেষে বরকতউল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সৈয়দ আশরাফের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দিয়েছি। তিনি স্বাক্ষর করে তা গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হবে বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন।’
১৮ অক্টোবর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর তিন দিনের মাথায় গতকাল ২১ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে থাকা ২০ উপদেষ্টার মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ পাঁচজন ও বিএনপি পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব দেওয়ার পরদিন আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠালেন।
বিএনপির সংবাদ ব্রিফিং: গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বহরে পুলিশি হামলার নিন্দা জানান। ওই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের অপসারণ ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, যখন সমঝোতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখন এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে সরকার সমঝোতায় আন্তরিক নয়। এ জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়। কিন্তু এটিকে দুর্বলতা মনে করলে সরকার ভুল করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি ২৫ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়। সরকার সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংকট নিরসনের পথ উন্মুক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

AD BANNAR