Monday, 21 October 2013

স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেটের নতুন অধ্যায় "লাইফাই"


PriyoTech's picture

স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেটের নতুন অধ্যায় "লাইফাই"


চীনা বিজ্ঞানীরা আলোকরশ্মির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নতুন পদ্ধতি "লাইফাই" উদ্ভাবন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রচলিত বেতার তরঙ্গ নির্ভর ওয়াইফাইয়ের চেয়ে অনেক সহজ ও নিরাপদে তথ্য স্থানান্তর করা যাবে। দুর্দান্ত গতির এই নেটওয়ার্ক থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন এইচডি মুভি। আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রি ফেয়ার’-এ নতুন প্রযুক্তির অভিষেক ঘটবে। প্রদর্শন করা হবে এই প্রযুক্তি সেবার ১০টি লাইফাই কিটস।

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি অধ্যাপক ও চীনা গবেষক দলের প্রধান চি নান জানান, নতুন পদ্ধতিতে একটি এক ওয়াটের এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) বাতির মাধ্যমে চারটি কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যাবে।
এক্ষেত্রে বাতিটিই নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করবে। বাতিনির্ভর এ পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে লাইট ফাইডেলিটি (লাইফাই)।
এ ধরনের বাতিতে অবশ্য বিশেষ কয়েকটি মাইক্রোচিপ সংযোজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেকেন্ডে ১৫০ মেগাবাইট গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। বিশ্লেষকরা জানান, চীনে প্রচলিত ব্রডব্যান্ডের চেয়ে এ গতি অনেক বেশি।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, ইন্টারনেট সংযোগের জন্য আলাদা কোনো ফাইবার অপটিক ক্যাবলের প্রয়োজন হবে না। কেননা, এতে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের মাধ্যমেই ইন্টারনেট তথ্য পাঠিয়ে দেয়া যাবে।
প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চাইনিজ একাডেমী অব সায়েন্সের নিয়ন্ত্রণাধীন সাংহাই ইন্সটিটিউট অব টেকনিক্যাল ফিজিক্স।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লাইফাই প্রযুক্তিতে যোগাযোগ উন্নয়নের প্রথম ধারণা দেন জার্মান অধ্যাপক হেরাল্ড হ্যাস। জার্মানির ফ্রনহোফার হেনরিচ হার্জ ইনিস্টিটিউট (এইচএইচআই) এর ল্যাবে লেড বাল্বের মাধ্যমে শুরুতে ৩ জিবিপিএস ডেটা স্থানান্তরে সক্ষম হন তিনি।
এরপর একই পদ্ধতিতে একটি ট্রেড ফেয়ারে ৫০০এমবিপিএস গতিতে ডেটা স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রযুক্তির মান উন্নয়ন নিয়ে এখনো গবেষণা করছেন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেরাল্ড হ্যাস।
সম্প্রতি সেখানকার ট্রেড ফেয়ারে তিনি দাবি করেন খুব শিগরই ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির পরিপূরক হবে তার উদ্ভাবিত লাইফাই।
প্রচলিত পদ্ধতির বেজ স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক চালিয়ে রাখতে হয়। এতে ইন্টারনেট ব্যবহার না হলেও শক্তি খরচ হতেই থাকে। আবার এ ধরনের সংযোগের সিগন্যাল সম্প্রচার বন্ধ করে রাখার ক্ষমতাও গ্রাহকদের নেই।
কিন্তু লাইফাইয়ে গ্রাহক চাইলে তার সংযোগটি বন্ধ রাখতে পারবেন। এতে সার্ভারের ওপর চাপ কমবে, পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয় হবে অবিশ্বাস্য হারে।
লাইফাইয়ের ধারণাটা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এ নাম সর্বপ্রথম দেন এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যারাল্ড হাস। তিনিই প্রথম দেখান যে, দৃশ্যমান আলোর (ভিজিবল লাইট কমিউনিকেশন- ভিএলসি) মাধ্যমে নেটওয়ার্কভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব।
লাইফাইকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন চীনারা। আগামী ৫ নভেম্বর সাংহাইয়ে অনুষ্ঠেয় চীনা আন্তর্জাতিক শিল্প মেলায় ১০টি আলাদা আলাদা ধরনের লাইফাই যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হবে।
চির মতে, প্রচলিত ওয়াইফাই বেশ ব্যয়বহুল এবং এর দক্ষতাও কম। কিন্তু লাইফাই যেমন সস্তা, তেমনি এর কার্যকারিতাও বেশি। তিনি বলেন, সেলফোনে তথ্য সংযোগ দিতে সারা বিশ্বের কোটি কোটি বেজ স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
কিন্তু এগুলোর পেছনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হয়, তার সিংহভাগই যায় সেগুলোকে ঠাণ্ডা রাখতে। এক্ষেত্রে বেজ স্টেশনগুলোর জ্বালানি সক্ষমতা মাত্র ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, লাইফাইয়ের মাধ্যমে চীনে ইন্টারনেট ব্যবহার আরো জনপ্রিয় হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে অবশ্য এখন বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন। এখানে ৬০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।
গবেষকদের দাবি, বেজ স্টেশনের সঙ্গে তুলনা করলে এলইডি বাতির ব্যবহারিক সম্ভাবনা অসীম। কেননা, চীনের প্রায় প্রতিটি বাসাবাড়িতেই এখন স্বল্পমূল্যের অধিক টেকসই এলইডি বাতি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচলিত টাংস্টেন বাতির বদলে।
চি বলেন, যেখানেই এলইডি বাতি, সেখানেই ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যাবে। বাতি বন্ধ করে দিলে ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে শক্তি সাশ্রয়ও হবে।
জার্মানির ‘দৃশ্যমান আলোক যোগাযোগ বা ভিএলসি প্রযুক্তির ওপর ভর করে এরপরই গ্রাহকদের জন্য এই লাইফাই নেটওয়ার্ক সেবা চালু করতে যাচ্ছে চীন। তবে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা পেতে আরো বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
সেবা চালু হলে চীনের বিদ্যমান যে কোনো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের চেয়ে এই নেটওয়ার্ক অধিক দ্রুততার সঙ্গে সেবা দেবে বলে জানিয়েছেন চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক চি নান।
‘চীনের নেটিজেনদের মধ্য খুব দ্রুততার সঙ্গে লাইফাই প্রযুক্তির ইন্টারনেট সেবা বিস্তার লাভ করবে’ উল্লেখ করে চি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নেটিজেন রয়েছে এখানে, সংযোগ রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি। এদের অনেকেই এখন বাড়ির সাধারণ বাল্ব পাল্টে লেড বাল্ব লাগাতে শুরু করেছেন।

বিশ্বে ৯১৮টি হ্যাকার টিমে সবার শীর্ষে বাংলাদেশ!

বিশ্বে ৯১৮টি হ্যাকার টিমে সবার শীর্ষে বাংলাদেশ!


বিশ্ব হ্যাকারদের হ্যাকিং সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা "হ্যাক মিরর" সাইটের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সারা পৃথিবীর ৯১৮টি হ্যাকার টিমের মধ্যে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস। একই সাথে এই হ্যাকার টিমটি জোন-এইচে পৃথিবীর সেরা ৫০টি টিমের মধ্যে ৩২তম স্থানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের হ্যাকার টিমের মধ্যে দলগতভাবে এ কৃতিত্ব অর্জনের ঘটনা এবারই প্রথম।

বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে উঠে আসার আগে ইন্দোনেশিয়ান, ইরান, তুরস্কের হ্যাকাররা এগিয়ে ছিল। ইন্দোনেশিয়া ছিল প্রথম স্থানে।
তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া সাইবার যুদ্ধে বাংলাদেশের হ্যাকাররা ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক হামলা চালালে তারা অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে।
এবং সাইবার যুদ্ধ চলাকালীন সে দেশের সরকারি উদ্যোগে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে পিছু হটে ইন্দোনেশিয়ান হ্যাকাররা। এমন নানান সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হ্যাকার টিম এখন বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
এদিকে এই হ্যাকার টিমটি সম্প্রতি জোন-এইচে পৃথিবীর সেরা ৫০টি হ্যাকার টিমের মধ্যে ৩২ নম্বর স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
মাত্র দুই বছরের একটু বেশি সময় ধরে হ্যাকিং নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস এই শীর্ষ স্থানে চলে আসলো।
তবে এককভাবে জোন-এইচে বাংলাদেশের আরেক সেরা হ্যাকার টাইগার ম্যাট এই মুহূর্তে ২০ নম্বর স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি এর আগে ৭ম স্থানে ছিলেন। মূলত অনিয়মিত হ্যাকিং এর কারণে তিনি ক্রমশ নিচের দিকে চলে আসছেন।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় হ্যাক মিরর এবং ২০০২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় জোন-এইচ। তুলনামূলক পুরনো সময়ের হ্যাকারদের একক রাজত্বকালে গত ১১ বছর ধরে কিছু হ্যাকার টিম শীর্ষ স্থানে ছিল।
তবে এখন হ্যাকারদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা করার ফলে ক্রমশ এই তালিকা থেকে কিছু টিম পিছে চলে যাচ্ছে। আর কিছু টিম দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশেরও একটি টিম এগিয়ে চলেছে (বর্তমানে ৩২ তম)।

আর ঠিক কত দিনে জোন-এইচে পৃথিবীর সেরা হ্যাকারদের সরিয়ে প্রথম স্থানে আসা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসের এডমিন রোটেটিং রটোর এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখন যে গতিতে এগুচ্ছি তা নিয়মিত করতে পারলে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে আমরাই হবো পৃথিবীর সেরা এবং শক্তিশালী হ্যাকার টিম।
বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসের এডমিন রোটেটিং রটোর বলেন, র‍্যাংকিং এ আমরা এগিয়ে থাকার ফলে সারা বিশ্বের হ্যাকারদের চেয়ে আমাদের হ্যাকাররা যে অনেক দক্ষ তাই প্রমাণিত হলো।
যেখানে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হ্যাকাররা কাজ করেও কোন অবস্থানেই নেই সেখানে আমরা কোন সাহায্য না পাওয়া সত্ত্বেও ১ নম্বরে আমাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছি। এর ফলে আমাদের দেশের সাইবার স্পেসের উপর হ্যাকারদের হামলা অনেক কমে যাবে।
যদিও বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসের প্রক্সি টিম বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। যাদের কাজ হলো বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে হামলা হলেই তাদের উপরে পাল্টা হামলা চালানো।
জানা গেছে, বিশ্বে হ্যাকারদের সাথে বিভিন্ন দেশের সরকারের অনেক ভূমিকা থাকে। দেশের উন্নয়নে তারা সরকারের সাথে এক যোগে কাজ করে। সরকার নানানভাবে তাদের সহায়তা করে থাকে।
সম্প্রতি রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া, আমেরিকা, চীন, যুক্তরাজ্য, কোরিয়ার মতো দেশ এই নিয়ে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সরকারিভাবে খুব বেশি সহায়তা পায় না এ দেশের হ্যাকাররা।
এ প্রসঙ্গে রোটেটিং রটোর বলেন, প্রথমে এটা মনে রাখতে হবে একজন হ্যাকার কখনই খারাপ না। খারাপ হল ক্র্যাকার। হ্যাকিং করা এক প্রকার দুঃসাধ্য কাজ বটে। প্রযুক্তির ব্যাপারে তুখোড় জ্ঞান না থাকলে কখনোই হ্যাকার হওয়া সম্ভব না।
আপনারা দেখেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পরবর্তী যুদ্ধগুলো পরিচালনা করার জন্য সাইবার সৈন্য হিসেবে হ্যাকারদের মিলিটারিতে অন্তর্ভুক্ত করছে। ব্রিটেনে এই প্রক্রিয়া রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে শুরু করেছে।

রাশিয়া, চীন, ইরান, আমেরিকাতে সরকারের সাথে হ্যাকাররা কাজ করে গোয়েন্দা হিসেবে। এছাড়াও, অনেক দেশে গোপনে সরকারের সাথে হ্যাকাররা কাজ করছে, অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।
রটোর তাদের হ্যাকিং নিয়ে সাফল্যের গল্প সম্পর্কে বলেন, আমাদের অনেক সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কোন বাংলাদেশী সাইট হ্যাক হলে তৎক্ষণাৎ রিষ্টোর করে দেওয়া,
বাংলাদেশ পুলিশের জন্য লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বানানো এবং শ্রীলংকার সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের দেশের সকল সরকারি ওয়েবসাইট সিকিউর করা। ভবিষ্যতে আশা করছি আমাদের মাধ্যমে সাইবার স্পেস অনেক সুরক্ষিত থাকবে।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস টিমে ৩০ জন ক্রু কাজ করছেন। তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন মূর্খ মানব, ইনাম, আশিক ইকবাল, শাহজাহান এবং হিমেল।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী হ্যাক মিররে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস হোম ডিফেস দিয়েছে ৮৮৩৪টি, স্পেশাল ডিফেস বা সরকারি সাইট হ্যাক করেছে ৯৬০টি, ইউনিক আইপি বা সার্ভার হ্যাক করেছে ৩২৬৪টি এবং সব মিলে ডিফেস দিয়েছে ২৩১৩১টি।
এছাড়া জোন-এইচের তথ্যানুযায়ী সেখানে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস সিঙ্গেল ডিফেস বা সার্ভার হ্যাক করেছে ৫৪৮৩টি, মাস ডিফেস বা ২৪ ঘণ্টায় হ্যাক করেছে ৩৪৪১৪টি, হোম পেজ ডিফেস দিয়েছে ১৮৪৫৩টি, সাব-ডোমেইন ডিফেস দিয়েছে ২১৪৪৪টি এবং সব মিলে ডিফেস দিয়েছে ৩৯৮৯৭টি।
প্রসঙ্গত, হ্যাক মিরর এবং জোন-এইচ মূলত বিশ্ব হ্যাকাররা কে, কয়টি, কীভাবে সাইট হ্যাক করেছে তা মিরর করে। হ্যাকাররা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই প্রমাণ করে থাকে।

Sunday, 20 October 2013

উত্তরায় ফেসবুকে পুলিশি সেবা! শিগগিরই চালু হচ্ছে ডিএমপিতেও

উত্তরায় ফেসবুকে
পুলিশি সেবা!
শিগগিরই চালু হচ্ছে ডিএমপিতেও
জয়দেব দাশ
রাজধানীতে এখন পুলিশি সেবা ও সহায়তা পাওয়া যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা জোনের 'সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) উত্তরা' নামে একটি ফেসবুক পাতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডিজিটাল এ কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্য জোনেও এ সেবা চালু করা হবে বলে সমকালকে জানিয়েছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান।
সংশিল্গষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর উত্তরা জোনের খোলা ওই ফেসবুক পাতাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান দেশি ও প্রবাসী বাঙালিরা। গতকাল সন্ধ্যায় পাতাটিতে ১৫ হাজার ৯৩৬টি লাইক দেখা গেছে। এ দিকে এ সম্পর্কিত একটি মোবাইল অ্যাপিল্গকেশনের কাজও শুরু করছে ডিএমপি। এর মাধ্যমে সমগ্র ঢাকা অঞ্চলের ৮টি ক্রাইম জোন এবং ৪৯টি থানাকে একত্রিত করে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে এ সংশিল্গষ্ট একটি স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। অ্যাপটি চালু হলে ঢাকা শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ অফিসারের সরকারি নম্বর এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার যে কোনো প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের অবস্থান গুগল ম্যাপে দেওয়া যাবে, ভিকটিমের অবস্থান থেকে সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার সহজ রাস্তাটিও এ নতুন অ্যাপ দেখিয়ে দেবে। এ ছাড়া উত্তরা জোনের পুলিশ অ্যাপে এখন যেসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর সবই পাওয়া যাবে নতুন এই অ্যাপটিতেও।
উত্তরা এলাকার জন্য চালু হওয়া ওই অ্যাপে এখন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি নম্বর, গুগল ম্যাপে উত্তরার ছয়টি থানার (উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, এয়ারপোর্ট, উত্তরখান, দক্ষিণখান) অবস্থান, সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ডিউটি অফিসার এবং ওসির নম্বরটি, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিরাপত্তা চাওয়াসহ যাবতীয় সহায়তা চাওয়ার নম্বরসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের কোনো সদস্যের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার পেলে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোরও ব্যবস্থা থাকছে অ্যাপটিতে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী তারিক মাহমুদ ও মনসুর হোসেন তন্ময় বিনামূল্যে পুলিশের জন্য ওই অ্যাপ তৈরির কাজ করছেন।
ডিএমপি পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদের অনুমতিক্রমেই ফেসবুক পাতাটি চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এমন সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মাসরুফ হোসেন বলেন, তার স্বপ্ন একদিন এ সেবা দেশের প্রতিটি থানায় পেঁৗছে যাবে।

AD BANNAR