A sterile female Aedes aegypti mosquito is seen on
the forearm of a health technician in a research area to prevent the
spread of Zika virus and other mosquito-borne diseases, at the
entomology department of the Ministry of Public Health, in Guatemala
City, January 28, 2016. Photo: Reuters
Monday, 1 February 2016
‘তিনি এলাকার, খুব কাছের’
মনজুর কাদের
|
আপডেট: ১৪:৪১, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৬
ফেসবুকে আপনার ‘স্বামী’ পরিচয়ে ছবি পোস্ট করা হয়েছে?
আমাকে খেপিয়ে তোলার জন্য একটা চক্র কাজটি করেছে। এর পর হঠাৎ করেই আমার কাছে মারাত্মক হারে ফোন আসা বেড়ে যায়। ফোন আসা বেড়ে যাওয়ায় ভাবলাম, কী এমন হলো যে এত ফোন আসছে! পরে দেখলাম ফেসবুকে ‘ইসমাইল’ নামের একজনের সঙ্গে আমার কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁকে আমার ‘স্বামী’ হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে এসব নিয়ে এত আলোচনা, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হচ্ছে, আমি সুপারস্টার হয়ে গেছি।
কেন মনে হলো আপনি ‘সুপারস্টার’ হয়ে গেছেন?
চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি খুব অল্প সময় ধরে। এই অল্প সময়ে ভালো কয়েকজন নির্মাতার সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। সফলও হয়েছি। তাই কেউ আমার পেছনে লেগেছে। চলচ্চিত্রে আমি যদি কোনো বিষয়ই (সাবজেক্ট) না হতাম, তাহলে কেন এভাবে কেউ আমার পেছনে লাগবেন। আমার বাসার কাজের বুয়ার পেছনে তো কেউ লাগবে না। তাই ব্যাপারটা নিয়ে শুরুতে বিচলিত হলেও এখন আর মাথাই ঘামাচ্ছি না। এত দিন আমার মনেই হয়নি আমি সুপারস্টার। আজ যখন আমাকে জড়িয়ে এসব ফালতু বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন মনে হচ্ছে সত্যিই আমি সুপারস্টার।
কিন্তু এই ‘ইসমাইল’কে কি আপনি চেনেন না?
এই লোকটি আমার আত্মীয়ও না, বন্ধুও না। সে আমার পরিচিত। পরিচিত মানুষের সঙ্গে আমি কি ছবি তুলতে পারি না! কার মনে কী উদ্দেশ্য, তা তো আর আমি জানি না। নিশ্চয় কেউ এই বিষয়টাতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তা না হলে হঠাৎ করে অনেক আগের তোলা এই ছবিগুলোকে কেন সামনে নিয়ে আসা হলো! চলতি সপ্তাহে আমার নতুন ছবি ‘পুড়ে যায় মন’ মুক্তি পায়। শুনেছি ব্যবসায়িকভাবেও ছবিটি বেশ ভালো ব্যবসা করছে। তাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য মহলটা এই সময়কে বেছে নিয়েছে।
এই ‘ইসমাইল’-এর সঙ্গে তাহলে বিয়ে হয়নি?
পরিচয় থাকা মানে তো আর স্বামী না। তিনি এলাকার খুব কাছের। তার মানে তো এই না যে তাঁর সঙ্গে আমার প্রেম ছিল, সম্পর্ক ছিল আর বিয়েও হয়েছে! তাঁর কিন্তু সংসার আছে, বউ আছে। ছবিগুলো দিয়ে একটা খারাপ উদ্দেশ্যে কাজটা করা হয়েছে।
আপনার ছবি নিয়ে দ্বিতীয় যে পোস্টটি ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে, সেটিতে আপনাকে আরও বেশি অন্তরঙ্গ দেখা গেছে?
বিকেলে যে পোস্টটা দেখলাম, তা দেখে তো আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, ছবির মানুষটি আমি! এ-ও বুঝি সম্ভব! কাউকে হেয় করার জন্য মানুষ এত নিচে নামতে পারে! প্রথমত, পরের পোস্টের ছবির মানুষটা আমি না, এটা নিশ্চিত করতে চাই। একদম পরিকল্পনা করেই কেউ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। কেউ তো বলছে, আমার বিয়ে হয়েছে। তারা কাবিননামা পেয়েছেন। আজকাল কেউ চাইলে বিয়ের কাবিননামাও বানাতে পারেন। ২০১৬ সালে এসে এসব বোঝালে তো হবে না। মানুষ এসব খুব ভালো করেই বোঝে। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। তা না হলে, সকালে একজন আবিষ্কার হলো, বিকেলে হলো আরেকজন! ষড়যন্ত্র না হলে এটা কেমন করে সম্ভব।
কারা ষড়যন্ত্র করছে? হঠাৎ করে কেনইবা আপনার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করবে?
একটা গ্রুপ করছে—এটা আমি নিশ্চিত। তবে এটাও ঠিক, আমি তাদের বের করতেই পারব। একটু সময় লাগবে, এই আর কি। ফেসবুকে এ ধরনের উল্টাপাল্টা পোস্ট দিয়ে আমাকে দমানো যাবে না। সবাইকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ফেসবুকের ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে এমনটা করা হয়েছে। আর ছবিগুলো এমনভাবে ফটোশপ করা! সবাই হয়তো মনে করতে পারেন, শুরুরটা বিশ্বাসযোগ্য করানো গেলে পরেরটাও করানো যাবে।
অবশ্যই। আমি এটা প্রমাণ করেই ছাড়ব। আজকে আমি সুপারস্টার, তাই আমার বিরুদ্ধে এমনটা করা হচ্ছে।
আপনি নিজেকে তাহলে সুপারস্টার মনে করেন?
অবশ্যই। তা না হলে আমাকে নিয়ে এমন গুজব কেন ছড়ানো হচ্ছে।
সুপারস্টারদের বিরুদ্ধেই বুঝি এমন গুজব ছড়ানো হয়?
একদম তাই। শোবিজে কাজ করা মানুষের, যার বাজার কাটতি আছে, তাঁকে নিয়ে গুজব আর ষড়যন্ত্র হয় বেশি। আমাকে নিয়ে এত দিন এমন গুজব ছিল না। এখন হচ্ছে। তার মানে আমি কিছু একটা তো অবশ্যই হতে পেরেছি। চলচ্চিত্রে আমি এখন অনেকেরই ভাবনার বিষয়ও বটে।
কাদের ভাবনার বিষয় আপনি?
যাঁরা এমনটা করছেন তাঁরাই।
কেন মনে করছেন এমনটা?
খুব অল্প সময়ে আমি অনেক ছবিতে অভিনয় করেছি। এই মুহূর্তে অনেক ছবিও আমার হাতে আছে। মুক্তি পাওয়া আমার ছবিগুলো ব্যবসায়িকভাবেও সফলতা পেয়েছে। তাই এমনটা আমি মনে করতেই পারি। যে করেছে ঈর্ষা থেকেই করেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে নিশ্চয় এটা কেউ করবে না।
আপনার সঙ্গে কারও কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই?
একদম না। আমি সবার সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলি। বড়দের সম্মান আর সহকর্মীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করি।
ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলছেন। তাহলে কি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আমার ভক্তদের কাছে তো আমি মিথ্যাবাদী হয়ে যাব।
কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন?
এদের বিরুদ্ধে তো আর বেআইনি কিছু নেওয়া যাবে না। অবশ্যই আইনি পদক্ষেপই নিতে হবে। আমি আমার অভিভাবকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে দ্রুত মানহানির মামলা করব। এদের আমি হাজতে ভরবই। থানার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পর পিঠের ওপর যখন দুইটা পড়বে, তখন সবকিছু গড়গড় করে বের হয়ে যাবে। তবে এটাও ঠিক, এর পেছনে রাঘববোয়ালেরা আছেন। আর এই ছেলেদের শুধু ঘুঁটি বানানো হয়েছে। এদের ধরলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এদের আমি ছাড়ব না।
বিয়ের ব্যাপারে যে কথা উঠছে?
বিয়ে যদি হতো, আমি তো বলেই দিতাম। বিয়ে হলে আমার কী এমন ক্ষতি হতো। বিয়েতে তো সমস্যার কোনো কিছুই দেখছি না।
ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে চাই না: পরীমনি
সমকাল প্রতিবেদক
বিয়ে-কাবিননামা নিয়ে কথা বলতে চান না ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি।
পরীমনির সাথে কথিত স্বামী, কাবিন নামার ছবি ও খবর প্রকাশের প্রতিক্রিয়া
জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, প্রেম-বিয়ে-কাবিননামা এসব ব্যক্তিগত। এসব
বিষয়ে কথা বলতে চাই না।
রোববার সকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে আলোচিত নায়িকা পরীমনির কিছু পুরনো এবং 'অন্তরঙ্গ' ছবি।
আনিক আব্রাহামের নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক থেকে শেয়ার দেওয়া হয় পরীমনির ওই ছবিগুলো।
ছবিগুলো শেয়ার করে আব্রাহম লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু ইসমাইল আর তার স্ত্রী
সৃতি মনি যে আজ বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এক সময় ভোলা সদরেই
থাকতো তার জামাই বাড়িতে। তারপর তার নেশা গেলো অর্থ আর লোভ লালসার দিকে,
যার জন্য আমার সহজ সরল বন্ধুকে ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ করলো না। যাই হোক ছবি
গুলো দেখে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল তাই সবার সাথে একটু শেয়ার করলাম।'
এরপরই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায় পরীমনির ছবিগুলো। এ
নিয়ে পরীমনির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়াই বেশ কয়েকটি অনলাইনে প্রকাশ করা
হয় পরীমনির ওই ছবি সংক্রান্ত খবর।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে
প্রকাশিত ছবি নিয়ে কথা বলেন পরীমনি। পরীমনির স্ট্যাটাসে বলা হয়, 'ছবিতে কি
আমি বউ সেজে বাসর ঘরে বসে আছি?'
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এ রকম পিকচার তো আপনারা যারা আজ এই নিউজ
করেছেন আপনাদের সাথেও আছে। যেটা এই ছবির তুলনায় অনেক বেশি খাসাখাসি। তাহলে
আপনারা সব গুলোই আমার জামাই।'
পরীমনি বলেন, 'যে বা যার আমার ক্ষতি করবেন বলে এইসব করছেন তাদের বলছি, আমার ক্ষতি না বরং আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।'
ফেসবুক হয়ে নিজের কিছু ছবি গণমাধ্যমের খবরে জায়গা করে নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি
হওয়ার পর একই ধরনের আরও কিছু ছবি সামাজিক গণমাধ্যমে দেন অভিনেত্রী পরীমনি।
ছবি পোস্ট করে তার শিরোনামে পরীমনি লেখেন, 'বলুনতো আমার পাশের এই ছেলেগুলোর সাথে আমার কি সম্পর্ক? হাজবেন্ড রাইট???'
পরীমনি বলেন, 'ছবিগুলো সেইভ করে রাখেন, কিছুদিন পর এগুলোও পুরনো হয়ে যাবে। তখন এরকম নিউজে কাজে আসবে'।
ইসমাইলের সঙ্গে বিয়ের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার রাত সাড়ে ৯টার
দিকে আবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে শাকিল রিয়াজ নামে একজন ফেসবুকারের পোস্ট।
তিনিও আরেক যুবকের সাথে পরীমণির ছবি প্রমাণ করে দাবি করেন পরীমণি ওই যুবকের
স্ত্রী ও তার ভাবি। ছবিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছবি ছিল ঘনিষ্ঠ ও চুম্বনরত।
শাকিল রিয়াজের দেওয়া ফেসবুকের লেখাটি এমন, 'একটু আগে পরী মণি ভাবিকে নিয়ে
একটা পোস্ট দেখলাম, যেখানে ভাবিকে নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর স্ক্যান্ডাল
ছড়ানো হয়েছে। আসল সত্য হয়তো অনেকেই জানেন না। ভাবির (পরী মণির) আসল নাম
সামসুর নাহার স্মৃতি। ভাবি আমাদের খুব কাছের বড় ভাইয়ের বৌ। ভাইয়ের নাম সৌরভ
কবীর। ভাবিকে নিয়ে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে আমি আর মুখ বুঁজে
থাকতে পারলাম না। আমার মনে হলো এখনই সময়, আসল সত্যটা সবার সামনে তুলে ধরার।
ভাই ও ভাবির বিয়ে হয় ২৮ এপ্রিল ২০১২ সালে। তিন বছর প্রেম করার পর তারা
নিজেদের ইচ্ছেয় বিয়ে করেন এবং পরে সেটা দুই পরিবার থেকেই মেনে নেয়। ভাইয়ের
বাসা যশোরের কেশবপুরে।'
শাকিল রিয়াজ আরো জানান, 'ভাই এবং ভাবি নিজেদের পেশার জগৎ আলাদা। ভাই পেশায়
একজন প্রফেশনাল ফুটবলার। ভাই এবং ভাইয়ের পরিবারের সম্মতিতেই ভাবি মিডিয়া
জগতে প্রবেশ করেন। ভাই ও ভাবির নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তাঁদের এ
সম্পর্কের কথা আড়াল করে রেখেছেন। তাঁরা এখনো একসঙ্গে বিবাহিত জীবনযাপন
করছেন।'
মডেল হিসেবে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন আজকের আলোচিত্র অভিনেত্রী পরীমনি।
এর আড়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ফ্যাশন ম্যাগাজিনের মডেল হয়েও নির্মাতাদের
নজর কাড়েন তিনি।
কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের পর ২০১৩ সালে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন পরীমনি।
ক্যারিয়ার শুরুর দুই বছরের মধ্যে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩০টি সিনেমাতে অভিনয়
করলেও তখন পর্যন্ত মুক্তি পায়নি পরীর একটি চলচ্চিত্রও। অবশেষে গত বছরের
ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র 'ভালোবাসা সীমাহীন'।
Subscribe to:
Comments (Atom)