Wednesday, 23 October 2013

অনিদ্রায় একমাত্র ভরসা ঘুমের ওষুধ?

অনিদ্রায় একমাত্র ভরসা ঘুমের ওষুধ?

ঘুমের ওষুধের খুব একটা সুনাম নেই৷ বলা হয় এসব বিপজ্জনক ও আসক্ত করে৷ কিন্তু অনিদ্রা যাঁদের নিত্যসঙ্গী তাঁদের কাছে ঘুমের ওষুধের দিকে হাত বাড়ানো ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না৷ আর এরকম ঘটনা ঘটছে হামেশাই৷
আনে-মারিও একজন ভুক্তভোগী৷ ১৯ বছর আগে দেখা দেয় এই যন্ত্রণা৷ আনা মারির ভাষায়, ‘‘তা ছিল ১৯টি কষ্টকর বছর৷ অনিদ্রা যাঁদের হয়নি, তাঁরা তা বুঝবেন না৷'' মায়ের মৃতদেহ ছোঁয়ার পর থেকেই শুরু হয়৷ স্মরণ করে বলেন আনে মারি৷ ‘‘আমি জানতাম না মানুষের শরীর এত ঠাণ্ডা হয়৷ এটা ছিল একটা শক৷'' সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন আনা মারি৷ তারপর আরো অনেক রাত এইভাবে কাটে৷ ছোটেন ডাক্তারের কাছে৷ সেখানে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি তিনি৷
এখন আনে মারির বয়স ৬৮৷ বাস করেন জার্মানির বন শহরের কাছে লোমার শহরে৷ সেখান থেকে এক ঘন্টার মধ্যেই প্রায় সব ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে পারেন তিনি৷ এইসব চিকিত্সকের কেউ তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি৷
অবশেষে এক উপায় বের করেন তিনি৷ প্রতি রাতে চার ভাগের এক ভাগ ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন৷ ‘‘বছর দশেক আগে আমার মনে হয়েছিল, হয় এই ওষুধ তুমি খাও, নয় মৃত্যুবরণ করো৷ ঘুম পানাহারের মতই জরুরি'', বলেন আনে-মারি৷
Businesswoman sleeping at work © auremar #47175777 অনেক সময় রোগীরা পরদিন সকালে ক্লান্তি বোধ করেন৷
অনিদ্রার কবলে অনেক মানুষ
রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির ২৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে অনিদ্রার লক্ষণ দেখা যায়৷ অ্যামেরিকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ক্রনিক অনিদ্রায় ভোগেন৷ এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্লিপ ডিসওর্ডার রিসার্চ'৷
একটি ক্লিনিকের স্লিপিং সেন্টারের প্রধান হান্স গ্যুনটার ভিস জানান, ‘‘রোগীরা শোবার ঘরে এসেও সব চিন্তাভাবনা দূর করতে পারেন না৷ দৈনন্দিন নানা ঘটনা তাদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে৷'' এছাড়া শারীরিক কারণেও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে৷ যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যাতেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে৷
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আছে কী?
গবেষকরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন৷ কয়েক দশক আগে বারবিচুরেট ঘুমের ওষুধ হিসাবে নাম করেছিল৷ কিন্তু এর উপাদান মানুষকে নির্ভরশীল করে৷ একটি দুঃখজনক ঘটনা থেকে ওষুধটির নাম ছড়িয়ে যায় বিশ্বব্যাপী৷ হলিউডের চিত্রতারকা মেরিলিন মনরো বেশি ডোজে এই ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন৷
  • Schlaflos Wecker Symbol

    জার্মানিতে শতকরা ৬ জনকেই ঘুমের ওষুধ খেতে হয়

    ঘুমের কি প্রয়োজন আছে?

    আচ্ছা আমরা ঘুমাই কেন? ঘুমের কি তেমন কোনো প্রয়োজন আছে? এ নিয়ে গবেষণা হলেও এখনো তার ফলাফল সেভাবে পাওয়া যায়নি, আসল কারণ অনেকটা অন্ধকারেই রয়ে গেছে৷ একথা বলেন ডাক্তার হান্স গ্যুন্টার ভেস, যিনি এক স্লিপিং ল্যাবোরেটরির প্রধান৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘তবে যা আমরা সবাই জানি সেটা হলো, রাতে কারো ঘুম না হলে তার মধ্যে পরদিন সকালে ক্লান্ত ভাব, কাজে অমনোযোগী ও অল্পতে রেগে যাওয়া, এসব লক্ষণ দেখা দেয়৷’’
এরপর বাজারে আসে বেনজোডায়াজোপিন৷ এটাও মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যাতে ঘুম আসে৷ তবে এর উপাদান মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকেও প্রভাবিত করে, যেসব মানুষের অনুভূতি, নড়াচড়ার সমন্বয় ও মনমেজাজের জন্য জরুরি৷ এই ওষুধ এখনও পাওয়া যাচ্ছে৷ তবে এর চেয়েও ভালো একটি বিকল্প এসেছে বাজারে৷ এটির নাম জেড-ড্রাগ বলা হয়৷ এতে কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলির নাম জেড দিয়ে শুরু৷ এই ওষুধও ঘুম পাড়ায়, তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম৷ এখন অনিদ্রার চিকিত্সায় সাধারণত এই ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে৷
ভেষজ ওষুধও কাজে লাগতে পারে
এছাড়া বালড্রিয়ান বা ভ্যালেরিয়ানার মতো ভেষজ ওষুধও ঘুমের ব্যাঘাত হলে সাহায্য করতে পারে৷ তবে সমস্যাটা হালকা হলেই কেবল এই ওষুধ কাজে লাগে৷ অনিদ্রা জেঁকে বসলে উদ্ভিজ ওষুধ তেমন কাজে লাগে না৷
আধুনিক ঘুমের ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকলেও পুরোপুরি মুক্ত নয়৷ অনেক সময় রোগীরা পরদিন সকালে ক্লান্তি বোধ করেন৷ গাড়ি চালাতে পারেন না৷ এই ধরনের ওষুধ দুই সপ্তাহের বেশি নিলে পরে ওষুধ ছাড়া আর ঘুমই আসে না৷ অনেকদিন পর হয়ত কাজই করে না ঘুমের ওষুধ৷
আনে মারি জানান, তিনি ঘুমানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি৷ এজন্য ‘সেল্ফ হেল্প গ্রুপ'-ও গড়ে তুলেছিলেন৷ কিন্তু কিছুদিন পর অংশগ্রহণকারীরা আর আসতে পারেননি৷ ‘‘দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে সন্ধ্যার সময় খুব ক্লান্ত থাকতেন তারা৷ তাই এই আসরে আসা সম্ভব হয়নি,'' জানান আনে-মারি৷
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ঘুমের ট্যাবলেট সাময়িকভাবে নেওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা৷ ওষুধ দিয়ে লক্ষণটা কমানো যায় কিন্তু অনিদ্রার আসল কারণ দূর করা যায় না৷

DW.DE

সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে সংলাপের জন্য বাংলাদেশের বড় দুই দলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে৷ সর্বশেষ বিশ্বব্যাংক হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে, উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর জরুরি৷
বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক পরিচালক জোহানেট জাট বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার৷ এজন্য ক্ষমতার পালাবদল হতে হবে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়৷ তাঁর মতে, নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত৷ তিনি বলেন ক্ষমতার পালাবদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে৷
জাতিসংঘ অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করে আসছে৷ এজন্য জাতিসংঘ মহাসচিব দুই নেত্রীকে চিঠি দেয়া ছাড়াও টেলিফোনে কথা বলেছেন৷ সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিঠি এবং টেলিফোনে কথার পর জাতিসংঘ আবারো সক্রিয় হয়৷ ঐদিন সন্ধ্যায়ই জাতিসংঘের সহকারি মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো টেলিফোনে সৈয়দ আশরাফ এবং মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কথা বলেন সমঝোতার সংলাপ নিয়ে৷
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা মনে করেন সংলাপের দুয়ার খুলে গেছে৷ যুক্তরাজ্য এবং ক্যানাডা রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য সংলাপের কথা বলেছে৷ আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করে আলোচনার এখনই সময়৷ ইইউ দূত উলিয়াম হানা মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ আলাপ, আলোচনার মাধ্যমেই বের করতে হবে৷ এছাড়া ঢাকায় ভারতসহ বেশ কয়েকটি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে কথা বলছেন৷
সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান মনে করেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘের গঠনমূলক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে৷ তবে কোনো দেশ বা বিদেশি গোষ্ঠীর এই সুযোগ নেই৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত হবে না তাদের সুযোগ দেয়া৷ দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে, বিদেশিদের চাপে নয়৷ দেশের মানুষের কল্যাণে নির্বাচন নিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে৷
সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মানুষের কথাই শোনে না, বিদেশিদের কথায় আর কি হবে৷

DW.DE

‘পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু হবে না’

‘পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু হবে না’

বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “পরিবেশের কোনো ক্ষতি ইনশাল্লাহ হবে না।”

AD BANNAR